জরুরী বিজ্ঞপ্তি
সরকারী মিডিয়া তালিকাভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার সময় পত্রিকা  Reg: No: DA 6077
শিরোনাম
‘ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপঃ’ কবিরহাটে সাংবাদিককে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনে ব্যক্তিগত বিষয় তোলার নিন্দা আওয়ামী লীগ করেছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, এখন আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ পুলিশের তৎপরতায় লোহাগাড়ায় অপহৃত শিক্ষক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ শরীয়তপুরের সাবেক এমপি বিএম মোজাম্মেল হককে আরও এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখালেন আদালত নাটোরে তিন ফসলি জমির মাটি কাটার অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, ব্যাটারি জব্দ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুমোদনহীন টাইলস পুটিং ও ক্লিনার কারখানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা লোহাগাড়ায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন: আলোচনা সভা ও যুব ঋণ বিতর সীতাকুণ্ড প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন, ১৭ মাস না যেতে ৩ জন খুন সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১২জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে  দিয়েছে বিজিবি

মাদারীপুরে ৫৭ ইটভাটার সবই অবৈধ: ‘ম্যানেজ’ প্রক্রিয়ায় বিপন্ন কৃষি ও পরিবেশ

  • Update Time : Sunday, February 22, 2026
জহিরুল ইসলাম হৃদয়,মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:
​মাদারীপুর জেলাজুড়ে কৃষি জমি ও জনবসতি গিলে খাচ্ছে অবৈধ ইটভাটা।
এবং ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও  সরেজমিনে গিয়ে দেখা যাচ্ছে কাঠা পোড়ানোর হচ্ছে প্রতিটি ইট ভাটায় এবং নিজস্ব ভাবে তৈরি করে নিয়েছেন এই কাঠ কাটার জন্য ছমিল মেশিন।
জেলায় পরিচালিত ৫৭টি ইটভাটার একটিরও নেই বৈধ লাইসেন্স বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।
সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব ইটভাটা চললেও প্রশাসন রহস্যজনক কারণে নীরব।
অভিযোগ উঠেছে, জেলা প্রশাসনের তথাকথিত ‘এলআর ফান্ড’ বা বিশেষ তহবিলে মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিয়েই এই অবৈধ কারবার টিকিয়ে রাখা হয়েছে।
​আইনের তোয়াক্কা নেই কোথাও
​ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাহাড়, গবেষণাগার, সরাকারি বন ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে ভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। কিন্তু মাদারীপুরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। অধিকাংশ ভাটা গড়ে উঠেছে তিন ফসলি জমির ওপর। ধোঁয়া নির্গমনের জন্য নির্দিষ্ট উচ্চতার চিমনি ব্যবহারের কথা থাকলেও অনেক ভাটায় তা মানা হচ্ছে না। ফলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের বাগান এবং ধানক্ষেত পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।
​‘এলআর ফান্ড’ ও প্রশাসনের ভূমিকা
​স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ এসব ভাটা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই জেলা প্রশাসনের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভাটা মালিক জানান, “পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়া দীর্ঘমেয়াদী ঝামেলার বিষয়। তাই প্রশাসনের সাথে সমঝোতা করেই আমরা ভাটা চালাচ্ছি। প্রতি বছর জেলা প্রশাসনের ‘এলআর ফান্ডে’ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিতে হয়, যা মূলত ভাটা চালু রাখার অলিখিত অনুমতি।”
​প্রশাসনের এই নমনীয় ভূমিকার কারণে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।
​হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য ও কৃষি
​সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাটার জন্য মাটির জোগান দিতে ফসলি জমির ‘টপ সয়েল’ বা উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা শক্তি চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া নির্গত ছাই ও ধোঁয়ার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা বিশেষ করে শিশুরা দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
​ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “আগে এই জমিতে বছরে তিনবার ফসল পেতাম। এখন ভাটায় জমি দিয়ে আমরা নিঃস্ব। ধোঁয়ায় ধান হয় না, ফলন নেই। অভিযোগ করেও কোনো বিচার পাই না।”
​উদ্বিগ্ন পরিবেশবাদীরা
​পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, দ্রুত এই ৫৭টি অবৈধ ভাটা বন্ধ করা না গেলে মাদারীপুর জেলা এক ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তারা বলছেন, প্রশাসনের উচিত কোনো ফান্ডের দোহাই না দিয়ে জনস্বার্থে এসব মৃত্যুফাঁদ গুঁড়িয়ে দেওয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©2000 Banglarshomoy
Design & Develop BY Coder Boss