
নোয়াখালীর কবিরহাটে মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধের জেরে মুভি বাংলা টেলিভিশনের সাংবাদিক শাদাত হোসেনকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে ব্যক্তিগত বিষয় টেনে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষকসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণ।
আজ সোমবার (০২ নভেম্বর) সকাল ১১টার সময় কবিরহাট থানা সামনে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের ব্যানারে এ প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। উক্ত মানববন্ধনে সাংবাদিকদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে স্থানীয় সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকজনও অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা মুভি বাংলা টেলিভিশনের সাংবাদিক শাদাত হোসেনকে মারধর ও হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষকসহ জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেফতারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৩১ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া এলাকার কালামুন্সি বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক শাদাত হোসেনের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধের জেরে অভিযুক্ত আবুল কাশেম ওরফে পারভেজ, রফিক উল্যাহ, সাগর, জাহাঙ্গীর ও সোলাইমানের নেতৃত্বে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় পারভেজ ও রফিক উল্যাহ কাঠের বাটাম ও লাঠি দিয়ে তাঁকে পিটিয়ে জখম করেন এবং অন্য তিনজনও মারধরে অংশ নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক কবিরহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক আবুল কাশেম ওরফে পারভেজ শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। এমনকি তিনি আজ এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় টেনে এনে অপপ্রচার চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক কর্তৃক পেশাগত বিরোধকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ব্যক্তিগত বিষয় সামনে আনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া জানান, মসজিদসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার ঘটনায় জিডি হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply