
আরাফাত ভূঁইয়া শান্ত,মুন্সীগঞ্জ:
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার হাটলক্ষীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালসংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর পাড়ের সরকারি জায়গা দখল করে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চললেও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। তবে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িতরা এ দখলের সাথে জড়িত।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই লঞ্চ টার্মিনালের পশ্চিম পাশে নদীর পাড় ঘেঁষা ফাঁকা জায়গায় নতুন করে টিন ও কাঠের স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। শ্রমিকেরা সেখানে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি জায়গায় কার অনুমতিতে বা কার স্বার্থে এই স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগে ২০২৪ সালে একই এলাকায় থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এরপর দীর্ঘদিন জায়গাটি উন্মুক্ত ছিল। কর্মব্যস্ততার পর শহরের অনেক মানুষ সেখানে গিয়ে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতেন।
নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু হওয়ায় সেই পরিবেশও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশঙ্কা, এখনই নির্মাণকাজ বন্ধ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে সেখানে জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণে উৎসাহিত হতে পারেন। এতে সরকারি সম্পত্তি বেদখল হওয়ার পাশাপাশি ধলেশ্বরী নদীর পাড়ের পরিবেশ ও সৌন্দর্যও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, নির্মাণকাজের সঙ্গে বাল্কহেড জাহাজ মালিক সমিতির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সমিতির সহসভাপতি আবদুল জব্বার।
রাকিব মোল্লা বলেন, ‘এখানে আমাদের একটি ঘর ছিল। সরকার সেটি ভেঙে দেওয়ার পর আমরা অন্য জায়গায় অফিস ভাড়া নিয়েছি। আমিও শুনেছি এখানে দোকান নির্মাণ হচ্ছে। কারা দোকান নির্মাণ করছে, তা আমরা জানি না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘লঞ্চঘাটের নদীর পাড়ে আগেও স্থাপনা ছিল। সরকার সেগুলো ভেঙে দিয়েছে। এখন আবার নতুন করে স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। এটি স্থায়ী হয়ে গেলে দেখাদেখি আরও অনেকে জায়গা দখল করে স্থাপনা করবে। কিন্তু প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না।’
সরকারি জায়গায় নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, ‘যেখানে স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে, সেখানে আমাদেরও কিছু জায়গা রয়েছে। তবে জায়গাটি মূলত বিআইডব্লিউটিএর। লোক পাঠিয়ে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Leave a Reply