
জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপি রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বাবুকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রায়কালী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনের বাড়ি দখলের অভিযোগ রয়েছে।
বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত গত সোমবার (২৪ আগস্ট) বিএনপির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে জানানো হয়।
এর আগে গত রবিবার (২৩ আগস্ট) রাতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ ইফতেখার রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সামিউল হাসান ইমন ও এম ইউ আহমেদ মোশারফ স্বাক্ষরিত এক পত্রে মিজানুর রহমানকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কারাদেশের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অন্যের বাড়ি দখলসহ বিভিন্ন সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত ২১ জুলাই রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়িটি হস্তান্তর না করায় তাঁকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে কোনো প্রকার রাজনৈতিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বেলাল হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম আক্কেলপুর থানায় বাড়ি দখলের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়কালী গ্রামে প্রায় চার শতক জমির ওপর ১০-১২ বছর আগে একটি দোতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন বেলাল হোসেন। প্রায় চার বছর আগে ওই বাড়িটি বন্ধক রেখে অগ্রণী ব্যাংকের জিয়ানগর শাখা থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেলাল হোসেন আত্মগোপনে চলে যান। কিছুদিন তাঁর স্ত্রী শাহনাজ বেগম বাড়িতে অবস্থান করলেও প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনিও স্থান ত্যাগ করেন। সেই সুযোগে মিজানুর রহমান বাড়িটি দখলে নেন। পরবর্তীতে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার কথা বললেও তিনি তা পরিশোধ করেননি। একপর্যায়ে জমিটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করে বাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ‘জায়গাটি মূলত আমার দাদার। ১০-১৩ বছর আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বেলাল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জমি দখল করে এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। আমি কারো বাড়ি দখল করিনি, নিজেদের পৈতৃক জমি উদ্ধার করেছি।’
বহিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, দল থেকে বহিষ্কারের কথা শুনলেও কোনো চিঠি এখনো হাতে পাননি। তবে সোমবার সকালেই তিনি ওই বাড়ি থেকে তাঁর সমস্ত আসবাবপত্র ও মালামাল সরিয়ে নিয়ে বাড়িটি ছেড়ে দিয়েছেন।
আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ ইফতেখার রানা বলেন, ‘যে দলেরই লোক হোক না কেন, অন্যের বাড়ি দখল করা গুরুতর অপরাধ। আমরা তাঁকে বারবার বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি শোনেননি। তাই দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যায় ও অপকর্মের সঙ্গে দল কোনোভাবেই আপোশ করবে না।’
Leave a Reply