জরুরী বিজ্ঞপ্তি
সরকারী মিডিয়া তালিকাভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার সময় পত্রিকা  Reg: No: DA 6077
শিরোনাম
‘ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপঃ’ কবিরহাটে সাংবাদিককে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনে ব্যক্তিগত বিষয় তোলার নিন্দা আওয়ামী লীগ করেছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, এখন আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ পুলিশের তৎপরতায় লোহাগাড়ায় অপহৃত শিক্ষক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ শরীয়তপুরের সাবেক এমপি বিএম মোজাম্মেল হককে আরও এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখালেন আদালত নাটোরে তিন ফসলি জমির মাটি কাটার অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, ব্যাটারি জব্দ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুমোদনহীন টাইলস পুটিং ও ক্লিনার কারখানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা লোহাগাড়ায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন: আলোচনা সভা ও যুব ঋণ বিতর সীতাকুণ্ড প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন, ১৭ মাস না যেতে ৩ জন খুন সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১২জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে  দিয়েছে বিজিবি

রোহিঙ্গা সংকটের দায় শুধু বাংলাদেশের নয়,এটি সমগ্র আন্তর্জাতিক মহলের-রোহিঙ্গা সংলাপে প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনুস 

  • Update Time : Monday, August 25, 2025

নুরুল আমিন হেলালী,কক্সবাজার:
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ৩দিনব্যাপী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও টেকসই সমাধান শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় ৭ দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড.মুহাম্মদ ইউনুস।
এ সময় তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন থেকে রক্ষায় বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এরপর কক্সবাজারের ইনানীতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনের ভয়াবহ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে সশস্ত ঘাতকদের থামানো আমাাদের নৈতিক দায়িত্ব। সম্পদ ও সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ২০১৭ সালে এবং তারও আগে রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে মানবিক কারণে বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল। মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মিকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে আর কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ না করে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ ও কার্যকর চাপের মাধ্যমেই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।”
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়, তাদের একমাত্র স্বদেশ মিয়ানমার। আট বছর ধরে বাংলাদেশ তাদের মানবিক সহায়তা দিচ্ছে, কিন্তু সমস্যার মূলোৎপাটন হচ্ছে না। এই অবস্থায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে, নতুবা এ অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।” তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন, খাদ্য সহায়তা জোরদার করা এবং রোহিঙ্গাদের মনোবল ধরে রাখতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
দেশ এখন স্থিতিশীল জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে অংশীজন সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি। রোহিঙ্গা সংকটের দায় শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি সমগ্র আন্তর্জাতিক মহলের।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস। সেখান থেকে তিনি সরাসরি সম্মেলনস্থল ‘হোটেল বে ওয়াচে’ যান এবং মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন।
‘টেক অ্যাওয়ে টু দ্যা হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্যা রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শীর্ষক এ তিন দিনের সম্মেলন রোববার (২৪ আগস্ট) শুরু হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রোহিঙ্গা ইস্যু বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দপ্তর যৌথভাবে এ আয়োজন করেন। এতে অংশ নিচ্ছেন জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে সক্রিয় সব স্টেকহোল্ডারসহ অন্তত ৪০টি দেশের প্রতিনিধি।

সম্মেলনের প্রথম দিনে রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দল সরাসরি বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নিজেদের অভিজ্ঞতা, নির্যাতনের কাহিনি ও প্রত্যাবাসনের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেন। এ সময় এক রোহিঙ্গা তরুণ বলেন, “আমরা বাংলাদেশে আশ্রিত, কিন্তু এখানে আমাদের ভবিষ্যৎ নেই। আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে আমাদের দেশ মিয়ানমারে।” বিদেশি প্রতিনিধিরা এ অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।
জাতিসংঘের এক প্রতিনিধি সভায় বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট এখন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যই এ সমস্যার সমাধান জরুরি।” ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি জানান, তাদের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে, তবে সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনের এই সম্মেলন থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর রূপরেখা প্রণয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফান্ড গঠন, গণহত্যার বিচার, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা এবং রোহিঙ্গাদের মানসিক শক্তি ও মনোবল বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও জোর দেওয়া হবে।
সুত্রে প্রকাশ,৩ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় চল্লিশটি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি দেশের সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত রয়েছেন। এই সম্মেলনে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিরাও নিজেদের মতামত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©2000 Banglarshomoy
Design & Develop BY Coder Boss