
ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করা অভিবাসীবাহী একটি নৌকা তিউনিসিয়ার উপকূলে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে তিউনিসিয়ার ন্যাশনাল গার্ড।
নিখোঁজদের সন্ধানে কোস্টগার্ড, সামরিক বাহিনী ও সিভিল প্রোটেকশন দলের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। দুটি হেলিকপ্টারও এই অভিযানে যুক্ত হয়েছে।
অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের প্রধান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে ১৫ জনকে নিয়ে নৌকাটি তিউনিসিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পরে তিউনিসিয়ার উপকূলের কাছে এটি ডুবে যায়। এখন পর্যন্ত মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, একটি বাণিজ্যিক জাহাজ তাকে উদ্ধারের আগে তিনি প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সমুদ্রে ভেসে ছিলেন।
তিউনিসিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নৌকাটিতে একই পরিবারের সাতজন সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া এক ব্যক্তি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে নৌকাটিতে উঠেছিলেন।
নিহত ও নিখোঁজ সবাই তিউনিসিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেন গেরদানে এলাকার বাসিন্দা। নিখোঁজদের সন্ধান জোরদার করার দাবিতে শনিবার রাতে লিবিয়া সীমান্তের কাছে ওই শহরে কয়েক ডজন তরুণ বিক্ষোভ করেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
উত্তর আফ্রিকার উপকূল থেকে মধ্য ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথটি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিবাসন রুটগুলোর একটি। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বহু মানুষ উন্নত জীবনের আশায় এই পথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ কয়েক ডজন মানবাধিকার ও মানবিক সংগঠন গত মাসে এক বিবৃতিতে বলেছে, তিউনিসিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত অভিবাসন চুক্তি দেশটিতে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর গুরুতর নির্যাতন ও অধিকার লঙ্ঘনকে আরও উৎসাহিত ও স্বাভাবিক করে তুলেছে।
সংগঠনগুলো তিউনিসিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অভিবাসন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে দেওয়া অর্থায়ন স্থগিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
Leave a Reply