জরুরী বিজ্ঞপ্তি
সরকারী মিডিয়া তালিকাভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার সময় পত্রিকা  Reg: No: DA 6077
শিরোনাম
‘ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপঃ’ কবিরহাটে সাংবাদিককে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনে ব্যক্তিগত বিষয় তোলার নিন্দা আওয়ামী লীগ করেছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, এখন আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ পুলিশের তৎপরতায় লোহাগাড়ায় অপহৃত শিক্ষক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ শরীয়তপুরের সাবেক এমপি বিএম মোজাম্মেল হককে আরও এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখালেন আদালত নাটোরে তিন ফসলি জমির মাটি কাটার অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, ব্যাটারি জব্দ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুমোদনহীন টাইলস পুটিং ও ক্লিনার কারখানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা লোহাগাড়ায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন: আলোচনা সভা ও যুব ঋণ বিতর সীতাকুণ্ড প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন, ১৭ মাস না যেতে ৩ জন খুন সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১২জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে  দিয়েছে বিজিবি

উলিপুরে ব্রিজ ভেঙে তিন বছর, কাঠের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার ৭ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ

  • Update Time : Monday, August 24, 2026
কুড়িগ্রামের উলিপুরে গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার প্রায় তিন বছর পার হলেও নির্মাণ হয়নি নতুন সেতু। ফলে উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের কাজজীপাড়া এলাকার বুড়ি তিস্তা খালের ওপর থাকা ব্রিজটি এখন স্থানীয় মানুষের দুর্ভোউলিপুরে ব্রিজ ভেঙে তিন বছর, কাঠের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার ৭ গ্রামের ২০ হাজার মানুষগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের তৈরি কাঠের অস্থায়ী সাঁকোই এখন পারাপারের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয়দের দাবি, কাজজীপাড়া, আমভন্দ্রপাড়া, চাকরি, ঘুঘুরাম, পান্ডলসহ আশপাশের প্রায় সাত গ্রামের ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ওই কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, নারী, শিশু ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় তিন বছর আগে ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ব্যাহত হয়ে পড়ে। পরে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ছোট একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করা হয়। সেই সাঁকো দিয়েই এখন প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করছেন।
তবে সাঁকোটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সামান্য অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে গেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বর্ষাকালে খালে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল রহমান বলেন, “ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়েই কাঠের সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে পার হতে খুব ভয় লাগে।”
পান্ডুল ইউনিয়নের আমভন্দ্রপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, “ব্রিজটি সচল থাকাকালে আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ ছিল। এখন ব্রিজ না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”
স্থানীয় শিক্ষার্থী মো. হিরা মিয়া, মোছা. হাফিজা ও জুয়েল মিয়াসহ কয়েকজন জানান, প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতের সময় ভয় লাগে। ভয়ে ভয়ে সাঁকো পার হতে হয়। বৃষ্টির সময় সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
কাজজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার হয়। সব সময় চিন্তায় থাকি, কখন কোনো শিশু দুর্ঘটনার শিকার হয়। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বড় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় শিক্ষকরাও নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন। বৃষ্টির দিনে অনেক সময় পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ করা দরকার।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, কাঠের সাঁকো দিয়ে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করতে না পারায় ব্যবসায়ীদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। ঠিকমতো ব্যবসা করা যাচ্ছে না। বড় গাড়ি নিয়ে কাজজীপাড়ায় যেতে হলে প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার দীর্ঘ সময় পার হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়ায় তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথ দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করলেও এখন তাদের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করতে হচ্ছে।
পান্ডুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন মালদার বলেন, “কাঠের সাঁকোটি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ফিজানুর রহমান বলেন, “কাজজীপাড়ার ব্রিজটির বিষয়টি আমরা জানি। আমাদের ৫০ ফুট ব্রিজ পর্যন্ত বরাদ্দ রয়েছে। সেখানে প্রায় ৭০ ফুট ব্রিজ প্রয়োজন। ৭০ ফুটের বরাদ্দ পাওয়া গেলে ঠিকাদারের মাধ্যমে ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©2000 Banglarshomoy
Design & Develop BY Coder Boss